ডেস্ক নিউজ:
সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেছেন, অাজকের শিশুরাই অাগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং জাতি গড়ার কারিগর। তাঁদের কাছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং এর প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক হল, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জাতিকে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানতে দেয়া হয়নি। দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিজয়ফুল প্রতিযোগিতা বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী অাজ সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে 'জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ফুল প্রতিযোগিতা ২০১৯' এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. অাবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার অানোয়ারুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এসডিজি) মো. মোকাম্মেল হোসেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার অানোয়ারুল ইসলাম বলেন, শুধুমাত্র অাইন প্রণয়ন করে নৈতিক গুণাবলীসম্পন্ন মানবিক মানুষ গড়া সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন দেশব্যাপী সুষ্ঠু সংস্কৃতি চর্চা ও সাংস্কৃতিক জাগরণ। দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার অাহবান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই কেবল মানুষের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. অাব্দুল মান্নান ইলিয়াস।
নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উপলব্ধি এবং সংগ্রামী ইতিহাস জানাবার উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে‘বিজয়ফুল’তৈরি, গল্প ও কবিতা রচনা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয় ও, চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং দলগত দেশাত্ববোধক ও জাতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ২০১৯ আয়োজন করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। সকাল ১০:৩০ টা হতে বিকাল ৪:০০টা পর্যন্ত চলে এ প্রতিযোগিতা।
এরপর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্ত:শ্রেণি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে বাছাইকৃত প্রতিযোগিদের মধ্য থেকে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগী নির্বাচন করা হবে। প্রতিযোগিতা তিনটি স্তরে যথা: গ্রুপ-ক: শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি, গ্রুপ-খ: ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং গ্রুপ- গ: নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় ছেলে ও মেয়ে উভয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।