নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে একদা দেশবাসীর ভালবাসায় সিক্ত এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে চরম বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকা মানিকগঞ্জ-১ আসনের ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয় উপজেলা জনপদে মানুষের মুখে মুখে দুর্ণামের ছড়াছড়ি। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির হাজারো অভিযোগ ঘিরে আছে তাকে। পার্সেন্টেজ বাণিজ্যেও শীর্ষে রয়েছে এমপি দুর্জয়ের নাম। স্কুলের নাইট গার্ড নিয়োগ থেকে টিআর, কাবিখা, সোলার প্যানেল বরাদ্দ এমনকি ইটভাটার মাটি সাপ্লাই থেকেও চাহিদা মাফিক টাকা গুণে দিতে হচ্ছে।
এমপির চাচা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তায়েবুর রহমান টিপুর সমন্বয়ে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দূল কুদ্দুস, ছাত্রলীগ সভাপতি সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক দুলাল, নয়নসহ ১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এমপির আশীর্বাদ নিয়ে তারাই যাবতীয় অপরাধ অপকর্ম চালিয়ে থাকেন। এ চক্রের আগ্রাসী থাবা থেকে নদী-নালা, সরকারি খাল, টার্মিনাল, রাস্তা থেকে শুরু করে সাধারন মানুষের ভিটে বাড়ি, ফসলী জমি কোনকিছুই রক্ষা পাচ্ছে না। নির্বিঘেœ সবকিছুই গিলে খাচ্ছেন চাচা-ভাতিজার গ্রুপ।
সাংবাৎসরিক ‘দুর্জয় গজবে’ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানিকগঞ্জ। নদ-নদীতে সারাবছর পরিচালিত বেপরোয়া ড্রেজিং কর্মকান্ডকেই ভুক্তভোগী বাসিন্দারা দুর্জয়ের গজব হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। যত্রতত্র এসব ড্রেজিংয়ের দৌরাত্ম্যে বহু বাড়িঘর, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে, বদলে যাচ্ছে নদ-নদীর গতিপথও। মানিকগঞ্জের প্রবীণ ও ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতাদের অনেকেই এমপি ও তার দলবলের নানা অপকর্মে রীতিমত বিব্রত হয়ে পড়েছেন।