নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার দুই নাইজেরিয়ানসহ তিনজনকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। পল্লবী থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) দিনগত রাত ১০টার দিকে ভাটারা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও বিপুল সংখ্যক ব্যাংকের স্লিপ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- অ্যালবার্ট ইকেচুকু ওরফে ইয, ওকে চুকু ওরফে চুকওয়ামা ও বাংলাদেশি মোছা. নুপুর খাতুন।
সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার অ্যালবার্ট প্রথমে ফেসবুকে বিভিন্ন মানুষকে ফেইক আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতেন। তারপর টার্গেট ব্যক্তি যখন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করতেন তখন তার সঙ্গে আলাপ করতেন।
নিজেকে বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে পরিচয় দিয়ে ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন। এক পর্যায়ে কিছু গিফট পাঠানোর আগ্রহ দেখিয়ে কৌশলে তার কাছ থেকে ই-মেইল ও নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতেন। তারপর কয়েক দিন পর ভুয়া গিফটের ছবি তুলে ম্যাসেঞ্জারে ছবি পাঠিয়ে বলতেন বন্ধু তোমাকে একটি পার্সেল পাঠিয়েছি তুমি ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করো।
কিছুদিন পর গ্রেফতার নুপুর কাস্টমস অফিসার সালমা বলে নিজেকে পরিচয় দিয়ে ভিকটিমকে ফোন করতেন। ফোনে সে বলতো, স্যার আপনার নামে একটি পার্সেল এসেছে, আমরা আপনার ঠিকানা যাচাই করার জন্য ফোন করেছি। আপনার ঠিকানা মিলিয়ে নেন। তারপর বলতেন, স্যার আপনার ঠিকানায় পার্সেলটি পৌঁছে যাবে। তার কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে বলতো স্যার আমরা আপনার পার্সেলটি স্ক্যান করে অনেক ডলার ও সোনা পেয়েছি, এগুলো অবৈধভাবে বাংলাদেশে এসেছে, এগুলো বৈধ করতে হলে সরকারি ট্যাক্স বাবদ টাকা জমা দিতে হবে। আর যদি টাকা জমা না করেন তাহলে মানিলন্ডারিং মামলা হয়ে যাবে বলে ভয় দেখাতেন এবং ভিকটিমকে ব্যাংক একাউন্ট নম্বর দিয়ে টাকা পাঠাতে বলতেন।
গ্রেফতার ওকেচুকুর প্রধান কাজ ছিল আলবার্টকে মোবাইল সিম সরবরাহ করা। তাছাড়া বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে আলবার্টের মতো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতেন এবং আলবার্টকে সরবরাহ করতেন। সে নুপুরকে সব প্রকার সহযোগিতা করতেন।
এ চক্রটি গত দুই বছরে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে বলেও জানান এডিসি নাজমুল।